রহমানিয়া নূরানী একাডেমি

দ্বীনি শিক্ষা ও সুন্দর চরিত্রে আলোকিত আগামী

প্রয়োজনীয় ইসলামি জ্ঞান, বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা ও আধুনিক সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, আনন্দময় ও যত্নশীল শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রচেষ্টা। পাশাপাশি আদব-আখলাক, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে প্রতিটি শিশুকে সুশিক্ষিত, আদর্শবান ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠা: ১৬ নভেম্বর ২০২৩ বাঙালী ব্রিজের পূর্ব পাশে (বাঁশহাটি সংলগ্ন), সারিয়াকান্দি, বগুড়া।
প্রতিষ্ঠার পেছনের ভাবনা

আমাদের প্রতিষ্ঠানের শুরুর কথা

সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক কিংবা অন্য যেকোনো পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে পেশাগত শিক্ষার পাশাপাশি একজন মুসলমান হিসেবে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই উপলব্ধি থেকে হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ ইছহাক আলী এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুভব করেন, যেখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঈমান, ইবাদত, শুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, আদব-আখলাক এবং প্রয়োজনীয় ফরজ দ্বীনি ইলম শিখতে পারবে।

আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা রেখে এবং দ্বীনের খেদমতের নিয়তে তাঁর উদ্যোগে ১৬ নভেম্বর ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় রহমানিয়া নূরানী একাডেমি। শিক্ষার্থীদের বয়স ও বোঝার সক্ষমতা অনুযায়ী সহজ পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের চরিত্র গঠনে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল ভাবনা।

আমাদের বিশ্বাস, দ্বীনি শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যায় একটি অন্যটিকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

“সন্তান যে পেশাতেই এগিয়ে যাক, তার জীবনে প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান ও সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা যেন অবহেলিত না হয়।”
আমাদের শিক্ষার ভিত্তি

ইসলামের পাঁচটি ভিত্তি

ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর পরিচয় এবং দৈনন্দিন জীবনে এসবের গুরুত্ব শিশুদের বয়সোপযোগীভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

০১ঈমান ও কালিমাআল্লাহর একত্ব ও রাসুলের প্রতি সাক্ষ্য
০২নামাজনিয়মিত সালাত আদায়ের শিক্ষা
০৩রোজাসিয়াম ও আত্মসংযমের গুরুত্ব
০৪হজসামর্থ্যবানদের জন্য হজের বিধান
০৫যাকাতযোগ্য সম্পদের নির্ধারিত অধিকার আদায়

শিক্ষার্থীদের শুধু বিষয়গুলো মুখস্থ করানো নয়; প্রয়োজনীয় মাসআলা, ইবাদতের আদব এবং বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ বোঝানোও আমাদের শিক্ষার অংশ।

শিক্ষার পরিবেশ ও পরিচর্যা

আমাদের বৈশিষ্ট্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মনোযোগী পাঠদান ও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আমাদের বিশেষ কিছু উদ্যোগ রয়েছে।

নূরানী পাঠপদ্ধতি
নূরানী তা’লীমুল কুরআন শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করে সহজ উপায়ে কুরআন শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব।

নিরিবিলি শিক্ষার পরিবেশ
কোলাহলমুক্ত, নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের প্রচেষ্টা।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাধ্যমে সহজ পদ্ধতিতে পাঠদানের ব্যবস্থা।

যুগোপযোগী সমন্বিত শিক্ষা
ইসলামি ও আধুনিক সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে যুগোপযোগী পদ্ধতিতে পাঠদান।

সুন্দর হাতের লেখা
আরবি, বাংলা ও ইংরেজি হাতের লেখা সুন্দর করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও অনুশীলন।

দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন
পাঠে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতি আলাদা মনোযোগ ও সহজ পদ্ধতিতে সহায়তা।

সাপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষা
শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষার আয়োজন।

সাহস ও প্রতিভা বিকাশ
শিক্ষার্থীদের সাহস, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে সাপ্তাহিক সেমিনারের আয়োজন।

পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং যত্নশীল পরিবেশ বজায় রাখায় বিশেষ গুরুত্ব।

আমাদের শিক্ষাগত অঙ্গীকার

রহমানিয়া নূরানী একাডেমির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা, প্রয়োজনীয় দ্বীনি ইলম, সুন্দর চরিত্র এবং সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে সহায়তা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

০১

বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা

শিশুদের আরবি হরফ, মাখরাজ, তাজবিদ ও শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখানো।

০২

ইসলামি আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষা

নামাজ, দোয়া, আদব-আখলাক, সততা, শৃঙ্খলা ও উত্তম চরিত্র গঠনে সহায়তা করা।

০৩

ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়

কুরআন ও ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত শিক্ষা দেওয়া।

০৪

দক্ষ শিক্ষক তৈরি

নূরানী মুয়াল্লিম ও মুয়াল্লিমাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা।

০৫

শিক্ষার মানোন্নয়ন

পাঠ্যক্রম, পাঠ্যবই, পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার মান বজায় রাখা।

০৬

দ্বীনি শিক্ষার প্রসার

শহর ও গ্রামের শিশুদের কাছে সহজ পদ্ধতিতে কুরআন ও মৌলিক দ্বীনি শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে

ইলম অর্জনের গুরুত্ব

ইসলামে শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কুরআন ও হাদিস থেকে কয়েকটি বাণী তুলে ধরা হলো।

সূরা আল-আলাক · আয়াত ১–৫

প্রথম ওহিতেই পড়ার নির্দেশ

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ۝ خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ ۝ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ ۝ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ۝ عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ

  1. ১. পড়ুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।
  2. ২. তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আলাক থেকে।
  3. ৩. পড়ুন, আর আপনার প্রতিপালক মহামহিম।
  4. ৪. যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন।
  5. ৫. তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অবতীর্ণ প্রথম ওহিতে পড়া, কলম ও জ্ঞানের কথা এসেছে। এখান থেকে শিক্ষার মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে গভীর শিক্ষা পাওয়া যায়।

সূরা আত-তাওবা · আয়াত ১২২

দ্বীনের জ্ঞান অর্জন ও শেখানো

فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ

বাংলা অর্থ (প্রাসঙ্গিক অংশ): মুমিনদের প্রত্যেক দল থেকে কিছু লোক কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং ফিরে এসে নিজেদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যেন তারা সাবধান হয়।

এই আয়াতে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন এবং তা নিজের সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

সহিহ বুখারি · হাদিস ৭১

দ্বীনের সঠিক বুঝ লাভের মর্যাদা

مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ

বাংলা অর্থ: আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ · হাদিস ২২৪

জ্ঞান অর্জনের দায়িত্ব

طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

বাংলা অর্থ: জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।

উচ্চারণ: ত্বলাবুল ইলমি ফারীদাতুন আলা কুল্লি মুসলিম।

সন্তানের সুন্দর শিক্ষাযাত্রায় পাশে থাকতে চাই

ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য জানতে অথবা কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।